গ্রামীণ ঋণগ্রহীতাদের ৫০ শতাংশ বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিলেও এখনো ২০-৩০ শতাংশ মহাজনের ওপর নির্ভর করেন। মহাজনের কাছ থেকে নেয়া সুদের গড় হার বিস্ময়করভাবে ১৪৫ শতাংশ। তবু ক্রেডিট কার্ড ও শহুরে জনগোষ্ঠীর মতো অন্যান্য আনুষ্ঠানিক আর্থিক পরিষেবার সুবিধা না থাকায় গ্রামীণ মানুষের জরুরি প্রয়োজনে শেষ ভরসা মহাজনরাই।
‘মহাজনের উপস্থিতিতে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিযোগিতা: তত্ত্ব এবং প্রমাণ’ শীর্ষক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। অস্ট্রেলিয়া সাউথ এশিয়া রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক শ্যামল চৌধুরী গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) কার্যালয়ে এক সেমিনারে এ ফলাফল প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের চারটি জেলার ১৫০টি গ্রামের জরিপের ওপর ভিত্তি করে এ গবেষণা পরিচালিত হয়েছে।
শ্যামল চৌধুরী জানান, যখন একটি আনুষ্ঠানিক ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান (এমএফআই) কোনো গ্রামে প্রবেশ করে ও বিদ্যমান গ্রামীণ ঋণ প্রদানের ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত হয়, তখন অনানুষ্ঠানিক মহাজনের প্রভাব এবং তাদের অত্যধিক সুদের হার উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। গ্রামে অতিরিক্ত এমএফআই প্রবেশের ফলে মহাজনের ওপর নির্ভরতা ৩৩ শতাংশ কমে যায়। এছাড়া একটি নতুন এনজিওর আগমনে সুদের হার ২৫ শতাংশ কমে যায়।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক ব্যাংক ও এমএফআই থাকলেও এখনো মহাজনের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা যায়। গড়ে একটি গ্রামে পাঁচটি ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থা (এনজিও) থাকে। যখন একটি অতিরিক্ত ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থা কোনো গ্রামে প্রবেশ করে, তখন মহাজনের কাছ থেকে নেয়া ঋণের মোট পরিমাণ হ্রাস পায়। তবে মহাজনের শিগগিরই অদৃশ্য হওয়ার সম্ভাবনা কম।’
তিনি ব্যাখ্যা করেন, গ্রামবাসী প্রায়ই চিকিৎসার জরুরি অবস্থা বা ফসলের ক্ষতির মতো তাৎক্ষণিক খরচের জন্য মহাজনের কাছে যান, যা সহজলভ্য আর্থিক সহায়তার স্থায়ী ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল কাদের এ উদ্বেগের প্রতিধ্বনি করে বলেন, ‘ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান এবং ঋণগ্রহীতাদের প্রত্যাশিত ঋণ বিতরণের সময় নিয়ে অসংগতি রয়েছে। এর ফলে প্রায়ই গ্রামীণ ঋণগ্রহীতারা মহাজনের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন। মানুষ সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের ক্ষেত্রে এমএফআইয়ের কাছে যায়। এসব ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ যেন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ না হয়, সেজন্য আমরা ঝুঁকি শনাক্তে এআই ব্যবহারের চিন্তা করছি। এভিডেন্স-ভিত্তিক নীতিনির্ধারণ করা উচিত। সেমিনারে ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপের (ইআরজি) নির্বাহী পরিচালক ড. সাজ্জাদ জহিরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আসা প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কাজী ইকবাল।